Bangla Sports

We love sports!

যে মাছগুলো আপনাদের খাওয়া উচিৎ নয়

আমরা সবাই জানি যে মাছ সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর। মাছ ছাড়া বাঙ্গালির খাবারের চিন্তা করা যায় না, তাই কথায় বলে- ‘মাছে ভাতে বাঙালি’, শুধু বাঙালিই নয় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষদের কাছেও মাছ অনেক প্রিয়। তবে কিছু মাছ রয়েছে যেগুলো মানুষের শরীরে ভালোর পরিবর্তে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

আমরা আপনাদের জন্য এমন ৯টি মাছের তালিকা সংগ্রহ করেছি যেগুলো না খাওয়াই ভালো।

১. মাগুর জাতীয় মাছ

মাগুর জাতীয় মাছ উল্লেখযোগ্য আকারের হতে পারে। এই জাতীয় মাছের আকার বৃদ্ধির গতি বাড়ানোর জন্য অনেক মাছ চাষীরা হরমোনের খাবার দিয়ে থাকে, বিশেষভাবে এশীয় দেশগুলো। চাষ ছাড়া মাগুর মাছগুলো কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেগুলোর মধ্যে মূল্যবান পুষ্টিগুণ আছে।

২. ম্যাকরেল

ম্যাকরেলের মধ্যে পারদ রয়েছে যেটি বুঝা যায় না কিন্তু মানুষের শরীরে জমা হয়, যার ফলে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এদিক থেকে আটলান্টিক ম্যাকরেল সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং আপনি আপনার পছন্দমতো যতটা সম্ভব খেতে পারেন।

৩. টুনা

টুনা মাছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ পারদ রয়েছে, বিশেষকরে ব্ল্যাকফিন এবং ব্লুফিন টুনার মধ্যে। বিভিন্ন স্টোরগুলোতে যে টুনা মাছ পাওয়া যায় সেগুলোর বেশিরভাগই মাছের খামার থেকে আমদানিকৃত, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক এবং হরমোন দিয়ে মাছ চাষ করা হয়। কারণ টুনা প্রায় বিলুপ্তির পথে, তাই দোকানে খুব সামান্য পরিমাণ চাষ ছাড়া টুনা মাছের দেখা মিলে।

৪. তেলাপিয়া

তেলাপিয়া মাছের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড নেই, তবে এটির মধ্যে ক্ষতিকারক চর্বির সংযোজন রয়েছে। তেলাপিয়া মাছ বেশী পরিমাণে খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরকে এলার্জির জন্য সংবেদনশীল করে তোলে।

৫. ইল

ইল মাছে প্রচুর পরিমাণ চর্বি রয়েছে এবং এই মাছ পানির মধ্যে অবস্থিত কারখানার বর্জ্য এবং কৃষি বর্জ্য সহজেই শোষণ করতে পারে। আমেরিকান প্রজাতির এই মাছের মধ্যে এই ধরণের মাত্রা বেশী থাকে। ইউরোপীয় ইল মাছও প্রচুর পরিমাণ পারদ দ্বারা দূষিত হওয়ার জন্য পরিচিত।

৬. পাঙ্গাস

পাঙ্গাস মাছ সাধারণ অবস্থাতেই বড় হয় দেখে এটি ফার্মে চাষ করা হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফার্মে মাছ চাষ করার সময় মাছের স্বাদ, আকার এবং পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক সার থেকে ক্যান্সার রোগের সৃষ্টি হয়।

৭. টাইলফিস

এই মাছে প্রচুর পরিমাণে পারদ রয়েছে এবং এটি প্রায়শই নিয়ম ভঙ্গ করে ধরা হয়ে থাকে। এই মাছ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

৮. সীবাস

সীবাসে প্রচুর পরিমাণ পারদ রয়েছে। বিশেষ করে যখন এটি কাবাবের মতো করে পরিবেশন করা হয়।

৯. ডলারফিস

এই মাছটি সাধারণত ওয়েলফিস হিসেবে পরিচিত, এটি জেমপিলোটক্সিন ধারণ করে- মাছের নরম অংশটি সহজে হজম হয় না। এই বিষ অত্যধিক ক্ষতি করে না, তবে এটি বদহজমের কারণ হতে পারে। জেমপিলোটক্সিনের মাত্রা কমানোর জন্য মাছটি ভাজা বা গ্রিল করা উচিৎ।

কিভাবে তাজা মাছ চিনবেন?

তাজা মাছের আঁশ উজ্জ্বল আর শক্ত হবে এবং চোখ সবসময় পরিষ্কার থাকে। চোখ ঘোলাটে হলে বুঝতে হবে সেই মাছটি অনেকক্ষণ আগে ধরা হয়েছে। আপনার হাতে একটি মাছ তুলে দেখুন, নষ্ট হওয়া মাছের লেজ দুর্বল এবং ভেঙ্গে যাবে। উজ্জ্বল লাল রঙের কানকুয়ার পরিবর্তে ধূসর হলে বুঝতে হবে মাছটি তাজা নয়।

একটি পাত্র থেকে জীবিত মাছ কেনার সময় নিশ্চিত করুন সেই পাত্রের পানি পরিষ্কার আছে কিনা। যে মাছটি পানির উপরিভাগে থাকবে সেটা বাদ দিয়ে গভীরে সাঁতার কাটা মাছ ক্রয় করুন।

আপনি যদি নিজে মাছ ধরে রান্না করতে চান তাহলে আপনি পানি বিশ্লেষক দিয়ে পারদের জন্য পানি পরীক্ষা করুন।

সালমন মাছ কেনার সময় এটির গায়ের উপর সাদা আঁশ দেখে বাছাই করুন। যদি একটি অংশ পুরোপুরি লাল হয় তাহলে বুঝতে হবে এটি শুকিয়ে গেছে। তাছাড়া মাছের ত্বকের উপর স্পষ্ট দাগ থাকলে সেটি ধরবেন না, এটি ডিম ছাড়ার সময় ধরা হয়েছে এবং সেই মাছের মাংস নরম হয়।

ব্রাইট সাইড থেকে অনুদিত।

bengalisports.com © 2018