Bengali Sports

Latest Bangla Sports Updates

আজ ১৭ই মে,টাইগারদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের দিন

<>

১৭ই মে ১৯৯৮ হায়দরাবাদের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি ক্রিকেটে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দুই দল বাংলাদেশ ও কেনিয়া। কোকাকোলা ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ, কেনিয়া বাদে অন্য দলটি ছিল ভারত।

এই সিরিজেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, হায়দারাবাদেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম জয়টি পেয়েছিল বাংলাদেশ।

Click Here<>

হায়দরাবাদের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে ইতিহাসে প্রথম ওয়ানডে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কেনিয়াকে হারিয়ে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে জয়ের দেখা পেলো বাংলাদেশ। প্রায় ১২ বছরের অপেক্ষা শেষে নিজেদের ২৩তম ম্যাচে গিয়ে আসলো টাইগারদের প্রথম জয়। অথচ এই কেনিয়াকে হারিয়ে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের পর তাদের বিপক্ষে আর জিততেই পারছিল না বাংলাদেশ।

হায়দরাবাদের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে ১৯৯৮ সালের ১৭ মে কেনিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আকরাম খানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। দিবা-রাত্রির ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন কেনিয়ার অধিনায়ক আসিফ করিম। রবি শাহের হাফ সেঞ্চুরি, হিতেশ মোদির ৪০ এবং দিপক চুডাসামার ৩৬ রানের ওপর ভিত্তি করে ২৩৬ রান তুলে ফেলে কেনিয়া।

যদিও মোহাম্মদ রফিকসহ বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে ১ ওভার বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় কেনিয়া। রফিক ৫৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট করে নেন খালেদ মাহমুদ সুজন এবং এমানুল হক মনি। ১ উইকেট নেন মোর্শেদ আলি খান। বাকি দুটি হলো রানআউট।

২৩৬ রান সেই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ জয়ের যে আশা করেছিল, সেটা যেন ধুলিধুসরিত। বিশেষ করে ফ্লাড লাইটের আলোতে এই রান তাড়া করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়েই ছিল সংশয়; কিন্তু হঠাৎ করেই তখনকার কোচ গর্ডন গ্রিনিজের মাথায় কী যেন খেলে গেলো। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আতহার আলি খানের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করবেন মোহাম্মদ রফিক।

সাত-আট নম্বরে ব্যাট করা মোহাম্মদ রফিককে ওপেনিং করানোর উদ্দেশ্য ছিল শুরুতে ধুম-ধাড়াক্কা পিটিয়ে কিছু রান যদি তিনি তুলে দিয়ে আসতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। ড্রেসিং রুমে সে কথা নিজেই বলেছিলেন কোচ গ্রিনিজ। তিনি আতহার আলি খানকে বলে দিয়েছিলেন এক পাশ ধরে খেলতে আর রফিককে গাইড করতে। রফিককে বলেছিলেন উইকেট বাঁচিয়ে রেখে যতটা পারা যায় পিটিয়ে খেলতে।

যে কথা কথা সে কাজ। আতহার আলি খানের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে ৮৭ বলে ৭৭ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে বসলেন রফিক। আতহার আলি খানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে গড়লেন ১৩৭ রানের অনবদ্য এক জুটি। কেনিয়ার গেম প্ল্যানেই ছিল না বিষয়টা। সুতরাং, রফিককে ওপেনিং করতে নামতে দেখে শুরুতে মুচকি হাসলেও পরে তারা বুঝতে পেরেছে, গেম প্ল্যানে হঠাৎ পরিবর্তনেই বাংলাদেশ সফল হয়ে গেলো।

রফিকের ইনিংসটাই বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ৮৭ বলে খেলা ইনিংসটি সাজানো ছিল ১১টি বাউন্ডারি আর ১টি ছক্কায়। ১৩৭ রানে আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের জয়ের পথে খুব বেশি বাধা থাকলো না। আতহার আলি খান খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। ৫১ বলে ৩৯ রান করেন আকরাম খান। আমিনুল ইসলাম বুলবুল ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। নাঈমুর রহমান দুর্জয় অপরাজিত থাকেন ৪ রানে।

শেষ পর্যন্ত ২ ওভার হাতে রেখেই ৬ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়টি পেয়ে গেলো বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটিও পেয়ে গেলেন মোহাম্মদ রফিক।

আজ সেই গৌরবের ২০ বছর পূর্তি। এতদিনে বাংলাদেশ পৌছে গেছে ক্রিকেটের এক অনন্য উচ্চতায়।

 

PJM Advertisement Click Here<><>

Bengali Sports © 2018